মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ নারায়ণগঞ্জ:- নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে হত্যা, ডাকাতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সহ অন্তত ১৫টি মামলার আসামি আলোচিত সন্ত্রাসী সাহেব আলী গুলিতে নিহত।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত পৌনে আটটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে জানান জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী।
এ পুলিশ কর্মকর্ন্ধ্্্ সাড়ে পাঁচটা থেকে ছয়টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের ওয়াপদা কলোনী এলাকায় নিজ বাহিনীর মধ্যে ‘অন্তঃকোন্দলের’ জেরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এই সময় সাহেব আলী গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তার পাশে খালে পড়ে যায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রথমে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে এবং সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঢামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলেও জানান তারেক।
নিহত ৪০ বছর বয়সী সাহেব আলী ওয়াপদা কলোনীর প্রয়াত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে।
তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর হামলা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সর্বশেষ গত বছরের ১৫ অক্টোবর সুনামগঞ্জ জেলা থেকে গ্রেপ্তার হন সাহেব আলী। তার আগে ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বউবাজার এলাকায় সাহেব আলীকে গ্রেপ্তারে গেলে তৎকালীন র্যাবের সদস্যদের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। পরে জামিনে বেরিয়ে আসেন সাহেব আলী।
স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওয়াপদা কলোনী এলাকার ইত্তেহাদ টাওয়ার নামে একটি বহুতল ভবনের সামনে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় সাহেব আলীর হাতেও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল এবং সে গুলিও ছুড়েছে। এক পর্যায়ে প্রতিপক্ষের গুলিতে বিদ্ধ হয়ে সড়কের পাশে খালে পড়ে যান।
ঘটনার সময় পাশের ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, বিপরীত দিক থেকে দৌঁড়ে আসা সাহেব আলীকে কাছ থেকে গুলি করেন এক যুবক। এতে সাহেব আলী পাশের খালে পড়ে গেলে সেখানেও তাকে একাধিক গুলি করেন ওই যুবক।
পুলিশ কর্মকর্তা তারেক আল মেহেদী বলেন, সাহেব আলীর নেতৃত্বে সিদ্ধিরগঞ্জে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী সক্রিয় ছিল।
“প্রাথমিক তদন্তে সাহেব আলীর নিজ বাহিনীর মধ্যে কোন্দল থেকে সহকর্মীদের ছোড়া গুলিতেই মারা গেছেন। তবে, কী কারণে তাদের নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে তা এখনো জানতে পারিনি। সিসিটিভি ফুটেজে কয়েকজনকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।”